ইরান যুদ্ধের অবসান ঘোষণা করল যুক্তরাষ্ট্র


সত্য সন্ধানী প্রকাশের সময় : মে ৬, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ /
ইরান যুদ্ধের অবসান ঘোষণা করল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্যগুলো অর্জন করে ফেলেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৫ মে) হোয়াইট হাউসের প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এমন দাবি করেন। মূলত, হোয়াইট হাউসের সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিং করেন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট, তবে তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটিতে থাকায় এদিনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে আসেন রুবিও, যা বিরল ঘটনা।

সংবাদ সম্মেলনে মার্কো রুবিও বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি শেষ হয়েছে। আমরা এর লক্ষ্যগুলো অর্জন করেছি। আমরা অতিরিক্ত সংঘাত চাই না। আমরা শান্তির পথই চাই। প্রেসিডেন্ট একটি চুক্তি চান।’

হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের নতুন যে অভিযান শুরু করা হয়েছিল, তা আকারে ছোট এবং মূল যুদ্ধ পরিকল্পনা থেকে আলাদা বলেও দাবি করেন রুবিও।

এটিকে একটি প্রতিরক্ষামূলক অভিযান হিসেবে উল্লেখ করে রুবিও বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা ৮৭টি দেশের প্রায় ২৩ হাজার মানুষকে সাহায্য করার লক্ষ্য নিয়ে এই অভিযান চলছে।

পৃথকভাবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কোনো সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নেই। যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো সংঘাত চায় না এবং তারা শান্তির পথেই অগ্রসর হতে আগ্রহী।’

রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট একটি স্থায়ী সমঝোতা চান, যেখানে আলোচনার মাধ্যমে একটি সমঝোতা স্মারক তৈরি করা হবে। সেখানে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও নিরাপত্তা ইস্যুগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত থাকুক, যাতে বৈশ্বিক বাণিজ্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যেতে পারে।

মূলত, মার্কিন কংগ্রেসের কিছু সদস্য অভিযোগ করছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কার্যত ১৯৭৩ সালের ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজোল্যুশন’ আইন-এর শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। ওই আইনে বলা আছে, প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত সামরিক অভিযান চালাতে পারেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথ আগ্রাসন শুরু করে। ৪৮ ঘণ্টা পর ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে এই সংঘাত সম্পর্কে অবহিত করেন। এর মধ্য দিয়ে ১৯৭৩ সালের আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের সময়সীমা শুরু হয়। সেই সময়সীমা গত শুক্রবার ১ মে শেষ হয়। এর মধ্যে যুদ্ধ শেষ করা বা কংগ্রেসে তা বৃদ্ধি করার যুক্তি উপস্থাপন করার বাধ্যবাধকতা ছিল।

এই বাধ্যবাধকতা এড়াতে হোয়াইট হাউস শুক্রবার ঘোষণা করে, অপারেশন এপিক ফিউরির আওতায় শত্রুতামূলক কার্যক্রম শেষ হয়েছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিতে সোমবার সকাল থেকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামের একটি অভিযান শুরু করে মার্কিন সেনাবাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের এ ধরনের প্রচেষ্টাকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল আখ্যা দিয়ে তা প্রতিরোধের ঘোষণা দেয় ইরান। এর কয়েক ঘণ্টা পরই এ অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মঙ্গলবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে তিনি জানান, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের অনুরোধ এবং ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ পুরোপুরি কার্যকর থাকবে।

সূত্র: সিএনএন, বিবিসি

মুসলিম বিশ্ব বিভাগের আরো খবর

আরও খবর